ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা জেলার সাংবাদিকদের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন ভোলা প্রেসক্লাব। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন ও সদস্যপদ প্রদান নিয়ে বিতর্ক ও আধিপত্যের অভিযোগে আলোচিত হয়ে আসছে । প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন সময়ে সদস্যপদ প্রদান ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ।
জানা যায়, ভোলার পেশাদার সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন এম আবু তাহের। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সংগঠনের অগ্রণী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন কবি ও রাজনীতিবিদ মোশারেফ হোসেন শাজাহান। প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রেসক্লাব পরিচালিত হলেও সংগঠনের নেতৃত্ব ও সদস্যপদ প্রদানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে আদালত তাদের সদস্যপদ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল প্রেসক্লাবের সদস্যপদ ও কমিটি গঠনে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এর ফলে অনেক পেশাদার সাংবাদিক সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমেও অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমেও প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন সময়ে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে হাবিবুর রহমানকে সভাপতি ও অপুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কিছু সাংবাদিক।
তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রেসক্লাবের কার্যক্রম সবসময় সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক মহলের অভিমত, ভোলা প্রেসক্লাবকে সত্যিকার অর্থে সকল সাংবাদিকের অভিন্ন সংগঠনে পরিণত করতে হলে স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সদস্যপদ প্রদান এবং কমিটি গঠন নিশ্চিত করা জরুরি।

