ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা প্রেসক্লাবকে ঘিরে গত কয়েক বছরে একাধিক কমিটি গঠন, বিলুপ্তি এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব কাঠামো কয়েকবার পুনর্গঠিত হয়েছে, যা সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে বেশ আলোচনায় নিয়ে আসে।

২০২৩-২০২৪ মেয়াদের জন্য প্রথমে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে সংগঠনের কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই কমিটি ডিসেম্বর মাসে একটি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনার পর ভোলা প্রেসক্লাব কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটির কার্যক্রম সচল রাখতে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
এই আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংবাদিকদের সদস্যপদ যাচাই-বাছাই এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইয়ারুল আলম লিটনসহ দুইজন আইনজীবীকে। তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৩৯ জনকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চূড়ান্ত করা হয় এবং সেই অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়।
তবে কয়েকজন সাংবাদিককে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে বিএনপির কিছু নেতা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। ফলে বিরোধ ও মতপার্থক্যের কারণে নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে চলমান সংকট নিরসন এবং সংগঠনের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে আবারও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ড. অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেতকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ভোলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
প্রেসক্লাব সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভোলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক স্থিতি ফিরিয়ে এনে একটি গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

