নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা: “সত্য প্রকাশ করাই ছিল আমার অপরাধ”—এমন অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ভোলার সাংবাদিক মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, চাকরির নামে প্রতারণা ও মেঘনা নদীর জেগে ওঠা চর দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তাকে ভোলার গুংগার হাট এলাকার বড় মোল্লা বাড়ির সামনে থেকে জোর পূর্বে চোখ-মুখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। দিনভর নির্যাতনের পর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি প্রায় দুই মাস কারাবন্দি ছিলেন এবং এক মাস ১৮ দিন পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে তার দাবি।
এ ঘটনায় তিনি ভোলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার উদ্দেশ্যে গুমের অভিযোগে মামলা (নং-৪৩১/২০২১, ভোলা) দায়ের করেন। আদালত পিবিআই বরিশালকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন (তারিখ: ১৬ জুলাই ২০২৪)। মামলায় পেনাল কোডের ১৪৯/৩০৭/৩২৫/৩৪১/৩৬৪/৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তবে মামলার বাদীর অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রবিউল ইসলাম (বিপি-৯০১৯২২৩০০৭), পিবিআই বরিশাল, ৫ জুন ২০২৫ তারিখে আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, তাতে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং দুইজন আসামির নামও প্রত্যাহার করা হয়েছে। মো. ফরিদুল ইসলামের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও মামলাটি ‘নরমাল’ করার চেষ্টা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি ভোলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। বাদীপক্ষ পিবিআই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন এবং পূর্বের ধারা বহাল রেখে ৪ ও ৫ নম্বর আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। নারাজি শুনানির তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
মো. ফরিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও তার দাবি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকার কারণে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোলার সাংবাদিক সমাজ মো. ফরিদুল ইসলামের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
চার দেয়ালের কারাগার তার শরীরকে বন্দি করেছিল—কিন্তু, তার ভাষায়, “সত্য ও আদর্শকে বন্দি করা যায়নি।”
Array
